চোখের সমস্যা এবং সমাধান। Eye problems and solutions.

চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান একটি অঙ্গ। যার চোখ নাই তার দুনিয়াটাই নেই। কেননা যাদের চোখ নেই তারা আমাদের এই পৃথিবীর অধরা সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারে না। কিন্তু আমরা চোখের যত্ন ঠিকমতো নেই না অবহেলা করে চলেছি কিছু কাজের মাধ্যমে।যার মাধ্যমে দেখা দেয় চোখের সমস্যা। জেনে নেই সমাধান। 

যার ফলে প্রতিনিয়ত ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে আমাদের এই মূল্যবান অঙ্গটি। আমাদের সঠিক যত্ন না নেওয়ার বা অবহেলা করার কারণে একসময় মারাত্মক পর্যায়ে চলে যাচ্ছে আমাদের চোখের সমস্যা। আর এসব সমস্যা নিয়েই সাধারণত আজকের এই লেখাটি।

তাই আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের সাথে আলোচনা করবো চোখের করব চোখের কিছু সমস্যা এবং তার সমাধান নিয়ে। তো আপনারা যদি চোখের এসব সমস্যার সমাধান পেতে চান তাহলে অবশ্যই আমাদের পুরো আর্টিকেলটি মনোযোগ সহকারে পড়বেন। চলুন জেনে নেওয়া যাক চোখের কয়েকটি সমস্যা ও তার সমাধান সম্পর্কেঃ

চোখে ছানি পড়ার সমস্যা 

চোখে ছানি পড়ার সমস্যা খুবই মারাত্মক একটি রোগ। আপনার চোখে সাধারণত যখন শাড়ি পরবে তখন আপনার চারপাশের সবকিছু ঝাপসা মনে হবে।চোখের ছানি পড়ার সমস্যা আস্তে আস্তে বাড়তে থাকে এবং এটা বাড়তে বাড়তে এক সময় মারাত্মক সমস্যার সৃষ্টি করে থাকে। আর তখনই সাধারণত চোখে অস্ত্রোপচার করার দরকার পড়ে। কিন্তু প্রাকৃতিক কিছু উপায় অবলম্বন করেও প্রাথমিক পর্যায়ে চোখে ছানি পড়ার এই সমস্যা থেকে মুক্তি সম্ভব। 

সমাধান

চোখের ছানি পড়লে ভিটামিন সি সমৃদ্ধ খাবার গ্রহণ করতে হবে। আপনি চাইলে অ্যানাইজম সমৃদ্ধ খাবার খেতে পারেন। কেননা যাদের চোখে ছানি পড়ার সমস্যা রয়েছে তাদের প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে সমস্যা হয়ে থাকে। অ্যানাইজম প্রোটিন জাতীয় খাবার হজম করতে সাহায্য করে। যা সাধারণত পেঁপেতে রয়েছে তাই চোখের ছানি প্রতিরোধ করার জন্য নিয়মিত পেঁপে খেতে পারেন। 

চোখের ছানি প্রতিরোধের জন্য আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ খাবার হল রসুন।চোখ জল দিয়ে ধুলে যেমন আপনার চোখ পরিষ্কার হয়ে যায় রসুন ঠিক কিন্তু সেই কাজটাই করে থাকে। চোখের ছানি পড়ার প্রাথমিক সমস্যা থেকে অচিরেই মুক্তির জন্য প্রতিদিন দুই তিন কোয়া রসুন খেতে পারেন।

এসব কিছু করার পরেও যদি আপনার চোখের ছানি পড়ার সমস্যা থেকে মুক্তি না মেলে তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চক্ষু ডাক্তারের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। 

চোখের সমস্যা

চোখের নিচে কালো দাগ পড়ার সমস্যা

চোখের নিচে কালো দাগের এই সমস্যাটিতে বর্তমান সময়ে অনেকেই ভুগে থাকেন। ভুগবেন না কেন এই যান্ত্রিক জীবনে মানুষ নিজের শরীরের বাঁ চোখের যত্নই বা নিচ্ছে কতটা।

চোখের নিচে কালো দাগ সাধারণত বিভিন্ন কারণে পড়তে পারে। চোখের নিচে কালো দাগ ঘুমের অনিয়মের কারণে পড়তে পারে, কোন রোগের কারণে হতে পারে তাছাড়া আরও কিছু সমস্যা রয়েছে যার জন্য চোখের নিচে কালো দাগ পড়তে পারে।

চোখের নিচে কালো দাগ পড়লে আপনার নিজেকে বিশ্রী দেখাবে। কেননা মানুষের সৌন্দর্যের একটি অঙ্গ চোখকে বলা হয়ে থাকে আর সে চোখের নিচে যদি কালো দাগ থাকে তাহলে কেমন দেখায়। আপনার যদি চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে থাকে তাহলে কিছু উপায় অবলম্বন এর মাধ্যমে আপনি চোখের নিচের কালো দাগ তুলতে পারবেন।

আপনি যদি উপরের এই কয়েকটি উপাদান  নিয়ম মেনে কয়েক দিন ব্যবহার করতে পারেন এবং চোখের নিচে এই উপকরণ গুলো ভালো ভাবে লাগাতে পারেন তাহলে কিছুদিনের মধ্যেই আপনার চোখের নিচের কালো দাগ উঠে যাবে। 

সমাধান 

আপনার যদি ঘুমের কারণে চোখের নিচে কালো দাগ পড়ে থাকে তাহলে অবশ্যই আপনাকে পর্যাপ্ত পরিমাণে ঘুমাতে হবে। আর চোখের কালো স্থানে আপনি নিয়মিত লেবুর রস ম্যাসাজ করতে পারেন বা আলুর রস দিয়ে রাখতে পারেন। 

আপনি এইভাবে কিছুদিন ব্যবহার করলে আপনার চোখের নিচের কালো দাগ নিমেষে উধাও হয়ে যাবে।সবথেকে ভালো হয় যদি আপনি ভিটামিন ই ক্যাপ এর  তেল আপনার চোখের নিচে ব্যবহার করলে।এটা ব্যবহারের অল্প কিছুদিনের মধ্যেই আপনি চোখের নিচে কালো দাগ থেকে পরিত্রান পাবেন।  

চোখের পাতা ফুলে যাওয়ার সমস্যা

চোখের সমস্যা গুলোর মধ্যে চোখের পাতা ফুলে যাওয়ার সমস্যাটি অন্যতম। আর সাধারনত এই কারণেই চোখ লাল হয়ে যায়। দুটি কারনে এই সমস্যা হতে পারে। 

ভাইরাল সংক্রমণ কিংবা ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ। ভাইরাস সংক্রমণের কারণে চোখের পাতা ফুলে যাওয়া এটি কিন্তু একটি সাধারণ সমস্যা। তবে এটি সাধারণ সমস্যা হলেও এর যন্ত্রণা কিন্তু মোটেও সাধারণ নয়। 

ঠান্ডা পানি দিয়ে চোখ ধুলে এর যন্ত্রটা কিছুটা কমে।আর ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণ যেটা হয়ে থাকে সেটা হচ্ছে এর প্রদাহ টা নিয়ম অনুসারে আস্তে আস্তে কমতে থাকবে। এই ক্ষেত্রে আপনার চোখের ড্রপ ব্যবহার করতে হতে পারে। যদি আপনার চোখ থেকে অনবরত পানি পড়তে থাকে এবং কিছুতেই যদি পানি পড়া না থামে বা দেখতে সমস্যা হয় তাহলে আপনি একজন চক্ষুর ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে পারেন।

সমাধান 

সাধারণত চোখে এসব সমস্যা হলে প্রাকৃতিক নিয়মে নিজে নিজে কিছু না করাটাই ভালো। আপনার যদি ব্যাকটেরিয়াল বা ভাইরাল সংক্রমণ হয়ে থাকে তাহলে অবশ্যই একজন চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের শরণাপন্ন হন।

চোখের সমস্যা এবং সমাধান

চোখের কোনায় ব্রণের মত হওয়া বা গোটা হওয়া

সাধারণত চোখের পাতায় পাতার সংযোগস্থলে বা চোখের এক কোনায় বর্ণের মত এক ধরনের গোটা হয়ে থাকে।এটি সাধারণত হয়ে থাকে চোখের পাতায় লোমকূপের নিচে ময়লা জমার কারণে।

ব্যাকটেরিয়াল সংক্রমণের কারণে এই ধরনের সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। তাই চোখের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কে সচল রাখতে উষ্ণ গরম কাপড় দিয়ে চোখের পাতার নিচে লাগালে এই ক্ষেত্রে অনেকটা উপশম পাওয়া যায়। তবে যন্ত্রণা যদি আপনার খুবই বেশি হয় তাহলে এক্ষেত্রে একজন ভালো চক্ষু বিশেষজ্ঞের শরণাপন্ন হওয়া উচিত। 

সমাধান

সব সময় চেষ্টা করতে হবে চোখ পরিষ্কার রাখা। চোখের রুমের নিচে ময়লা পড়া থেকে সকল সময় সচেতন থাকতে হবে। যদি সমস্যা খুবই গুরুতর হয় তাহলে অবশ্যই একজন ভালো চক্ষু ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। বিশেষজ্ঞ ডাক্তার আপনাকে অ্যান্টিবায়োটিক দেওয়ার মাধ্যমে চোখের পাতায় ইঞ্জেকশন করার মাধ্যমে আপনার যন্ত্রণা অনেক কমিয়ে দিতে পারে। 

চোখের সমস্যা

চোখের সমস্যা অতিরিক্ত জ্বালা করা বা চোখ চুলকানো  

সাধারণত হঠাৎ চোখে জ্বালা করা বা চোখ চুলকানোর সমস্যায় কমবেশি সবাই ভুগে থাকেন। এই সমস্যাটাকে সাধারণত অনেকেই অবহেলা করে থাকেন। আসলে এই সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে ব্যাকটেরিয়াল ইনফেকশন এর কারণে।হঠাৎ করে চোখের ব্যাকটেরিয়ার সংক্রমণ হলে এই সমস্যাটা দেখা দিতে পারে।

সমাধান 

চোখ সকল সময় পরিষ্কার রাখার চেষ্টা করতে হবে। চোখে কোন সময় ধুলাবালি পড়লে অবশ্যই পরিষ্কার পানি দিয়ে ধুয়ে ফেলতে হবে। তারপরও যদি ঘন ঘন চোখ জ্বালা করার বা চুলকানির সমস্যা তৈরি হয় তাহলে অবশ্যই বিশেষজ্ঞ এক চক্ষু ডাক্তারের শরণাপন্ন হতে হবে। 

পরিশেষে, চোখ আমাদের শরীরের সবচেয়ে মূল্যবান অঙ্গ মধ্যে একটি। চোখ ছাড়া আমাদের পৃথিবী অন্ধকার। তাই আমাদের চোখের অবহেলা কোন সময় করা উচিত নয়। 

চোখের যে কোন সমস্যায় হোক না কেন চোখের যত্নে কোন সময় অবহেলা করবেন না। কেননা এই ছোট ছোট সমস্যা থেকে বড় সমস্যার সৃষ্টি হয়ে থাকে। আর এই সূক্ষ্ম অঙ্গ চোখের সমস্যা তো আরো ভয়াবহ। 

তাই চেষ্টা করবেন সকল সময়ই চোখের যত্ন নিতে, চোখ পরিষ্কার রাখতে এবং চোখের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সব খাবার গ্রহণ করতে। তাহলেই আপনার চোখ থাকবে সুস্থ এবং নিরাপদ। আপনার পৃথিবী হবে ঝকঝকা। তাই পরিশেষে বলাই বাহুল্য যে চোখের যত্নে কোন অবহেলা নয়।

Leave a Comment