ছেলেদের চুল পড়ার সমস্যা এবং সমাধান (Hair loss problems and solutions for boys)

বরাবরের মতোই চুল পড়া সমস্যা প্রত্যেকটা ছেলের কাছে অনেক বড় একটি সমস্যা। সাধারণ ভাবে প্রতিদিনই আমাদের মাথায় কিছু না কিছু চুল ঝরে গিয়ে থাকে। তবে এর পরিমাণ টা যদি বেশি হয় তাহলে সেটা অবশ্যই চিন্তার বিষয়। চুল পড়ার ক্ষেত্রে আপনি লক্ষ করবেন মেয়েদের তুলনায় ছেলেদের বেশি এই সমস্যাটি হয়। মাথার উপরিভাগে চুল না গজানো অনেক বড় একটি সমস্যা।

প্রতিদিন ৪০-১০০ টি চুল পড়া সাভাবিক বিষয়। কিন্তু এর থেকে বেশি যদি পড়ে তাহলে বিষয়টাকে স্বাভাবিক বলা যাবে না।দেখা যাচ্ছে আপনি ঘুম থেকে উঠে দেখলেন আপনার বালিশে অনেক চুল লেগে আছে, কিংবা মাথায় একটু হাত দিলেন এতেও বেশ কিছু চুল চলে এসেছে, এইক্ষেত্রে আপনি বলতে পারেন আপনার চুল পড়া সমস্যাটি রয়েছে। এমনিতে আমাদের মাথা থেকে চুল ঝরে গিয়ে থাকলে সেখানে আবার নতুন করে চুল গজাতে শুরু করে।

তবে যাদের মাথায় চুল ঝরে যাওয়ার পরও চুল গজানোর কোন নাম নেই তাদের অবশ্যই এ ব্যাপারে ভাবতে হবে। তবে চিন্তার কোন কারণ নেই আজকের আর্টিকেলে আমি আপনাদের চুলপড়ার প্রধান কিছু কারণ এবং এর প্রতিকারে আপনি কি করতে পারেন সেটি সম্পর্কে বিস্তারিত বলবো। তবে চলুন শুরু করা যাক।

ছেলেদের চুল

ছেলেদের চুল পড়ার সমস্যা সমাধানঃ

চুল পড়া সমস্যা থেকে বাঁচার উপায় সম্পর্কে জানার প্রথমে আমাদের চুল খসে যাওয়ার কারণ সম্পর্কে জানতে হবে। চুল পড়ার কয়েকটি প্রধান কারণ হলোঃ

১) Chemical, কেমিক্যাল বলতে আজকের দিনে যে প্রোডাক্ট মানুষ ব্যবহার করছে সেটিকে বুঝানো হয়েছে। যেমন; অনেক ধরনের শাম্পু, কন্ডিশনার, আরো নানান কিছু। এগুলো ব্যবহার  করার কারণেই কিন্তু বর্তমানে ছেলেদের চুল বেশি ঝরে যাচ্ছে। এই প্রোডাক্টগুলো মধ্যে অনেক ক্ষতিকারক উপকরণ থাকে যেগুলো চুল পড়ে যাওয়ার প্রধান কারণ।

২) স্ট্রেস এর কারণে আমাদের শরীরে হরমোন এর মধ্যে ইন ব্যালেন্স হয়, যেটির জন্যেও এই ধরনের সমস্যা হয়। হরমোনজনিত কারণেও চুল ঝরে পড়া সমস্যা হয়।

৩) জল এর কারণেও চুল পড়ে যাওয়ার সমস্যা হয়ে থাকে। আপনি হয়তো কখনো না কখনো সমুদ্রের জলে স্নান করেছেন। সমুদ্রের জলে প্রচুর পরিমাণে সল্ট থাকে প্রচুর পরিমাণে ম্যাগনেসিয়াম থাকে। আর এই ধরনের উপাদান গুলো বেশি থাকলে চুলের কুয়ালিটি খারাপ হবে এবং চুল পড়া সমস্যা দেখা দিবে।

৪) অতিরিক্ত রোদে বেশিক্ষণ থাকলেও চুল পড়া সমস্যা দেখা দেয়। সূর্যের ক্ষতিকারক UV রশ্মি শুধুমাত্র আমাদের ত্বকের ক্ষতি করে এমনটা নয়, এটি আমাদের চুলের জন্য বেশ ক্ষতিকর। আর তাই অতিরিক্ত সূর্যের আলো বা রোদে যারা থাকেন তাদের চুল ঝরে যাওয়ার সমস্যা থাকতে পারে।

৫) আমাদের হওয়া অসুখ গুলোর কারণেও মাথার চুল পড়তে পারে, যেমন টাইফয়েড, ডেঙ্গু ইত্যাদি। এই ধরনের রোগগুলো আমাদের হলে তখন আমাদের চুলগুলো মারা যায়। তবে সেগুলো সাথে সাথে ঝরে পড়ে না, রোগ ভালো হওয়ার কয়েক মাস পর থেকে সেগুলো ঝরে যাওয়া শুরু করে।

আরো কিছু… (ছেলেদের চুল পড়া সমস্যা)

৬) চুল আমাদের প্রতিদিনের খাদ্যাভ্যাস এর উপরে অনেকটা প্রভাবিত। খাবারের অনিয়ম এর জন্যেও চুল পড়া সমস্যা দেখা দিয়ে থাকে।  তাছাড়াও ভিটামিন ও পুষ্টির অভাব দেখা দিলে আমাদের চুলের সাস্থ্য খারাপ হতে শুরু করে এবং চুল ঝরে যায়। প্রতিদিন আপনার যে পরিমাণে প্রোটিন এর প্রয়োজন রয়েছে সে পরিমাণে প্রোটিন যদি আপনি না খান তাহলে এই সমস্যা আপনার হবে। এছাড়াও, অতিরিক্ত বাহিরের খাবার খাওয়া ,জাঙ্ক ফুড অতিরিক্ত চুল পড়ার কারণ।

৭) অনেকে আছে যারা ভেজা চুল নিয়ে কাজ করা শুরু করে, কিংবা ভেজা চুল নিয়ে রাতে ঘুমিয়ে পড়ে, এমনটা করাটা কিন্তু চুলের জন্য ক্ষতিকারক। ছেলেদের ক্ষেত্রে দেখা যায় চুল ভেজা থাকা কালীন চুল আঁচড়ে রেখে দেয়, যেটি চুলের জন্য ক্ষতিকর। একারণেও চুল ঝরে যেতে পারে।

এই কয়েকটি কারণ ছিল মূলত আপনার অতিরিক্ত চুল পড়ে যাওয়ার পিছনে মূল কারণ। কারণ গুলো তো জানা হলো, এখন চলুন জেনে নেওয়া যাক কিভাবে এই সমস্যা থেকে বেরিয়ে আসবেন।

ছেলেদের চুল পড়া

চুল পড়া বন্ধ করার উপায়:

১. চুলের জন্য আপনি যে কেমিক্যাল এর প্রোডাক্ট বেশি পরিমাণে ব্যবহার করছেন সেটি কমিয়ে ফেলুন বা আপনি যে সেম্পু বারবার পরিবর্তন করে ব্যবহার করছেন সেটিকেও বন্ধ করে ফেলুন। এসকল কিছুর পরিবর্তনে সাধারণ কিছু ব্যবহার করুন। 

কোকোনাট, মাস্টার্ড অয়েল, বাদাম যুক্ত তেল গুলো ব্যবহার করবেন। মাস্টার্ড অয়েল অনেক গুরুত্বপূর্ন শরীরের জন্য, কারণ এতে থাকে ওমেগা ৩ চুলের একটি প্রধান উপাদান। চুলের যত্নে এই ধরনের তেল অন্তত সপ্তাহে ২-৩ বার ব্যবহার করুন।

২. যারা প্রতিদিন বিভিন্ন ধরনের ট্রেসে থাকেন, তারা প্রতিদিন অবশ্যই কিছুক্ষণ শারিরীক ব্যয়াম করবেন। এতে যেমন আপনার শরীর অনেক সুস্থ্য থাকবে, পাশাপাশি রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ও বৃদ্ধি পাবে এবং আপনার চুলের সমস্যাটি ও দূর হবে।প্রতিদিন কম হলেও ১০-১৫ মিনিট করে শারীরিক ব্যয়াম করুন।

৩. সপ্তাহে ২-৩ বার উপরে বলে দেওয়া তেলগুলো দিয়ে আপনার মাথার চুলগুলো ভালো ভাবে ম্যাসাজ করে নিন। তবে খেয়াল রাখবেন ম্যাসেজ যেনো বেশি জোরে জোরে করবেন না। হাতে অল্প তেল নিয়ে হালকা হালকা করে চুলগুলো ম্যাসাজ করবেন। এই ম্যাসাজ করার ফলে আমাদের চুলের অনেক উপকার হবে।

৪. বাহিরের সকল প্রকার খাবার, জাঙ্ক ফুড ইত্যাদি খাবার গুলো যত পারবেন এড়িয়ে চলার চেষ্টা করুন। এ ধরনের খাবার গুলো আমাদের পেটের জন্য যেমন ক্ষতিকর তেমন চুল ঝরে পড়ার পিছেও প্রধান কারণ।

সুতরাং, জাঙ্ক ফুড, বাহিরের খাবার এড়িয়ে চলুন।

৫. প্রতিদিন আমাদের শরীরের যে পরিমাণে প্রোটিন এর প্রয়োজন সে পরিমাণে প্রোটিন অবশ্যই গ্রহণ করুন। প্রোটিন আমাদের সাস্থ্যর জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি উপাদান। প্রোটিন গেইন করতে দুধ, ডিম খেতে পারেন, কেননা এগুলো অনেক প্রোটিন যুক্ত খাবার।

৬.ছেলেদের মধ্যে DHT নামে এক ধরনের হরমোন থাকে, যার জন্য ছেলেদের মেয়েদের তুলনায় বেশি পরিমাণে চুল পড়ে। আর ছেলেদের এই DHT হরমোন মেইনটেইন করার জন্য বাদাম যুক্ত যত খাবার আছে সেগুলো খাওয়া উচিত। এছাড়াও গাজর, কলা এগুলো খুবই উপকারী।

৭. স্নান করে এসেই অনেকে তাদের চুলগুলো কে জোরে জোরে গামছা দিয়ে মুছে। আবার কেও চুল ভেজা থাকা অবস্থায় অত্যন্ত জোরে জোরে আঁচড়ায় এগুলো কিন্তু একদমই করা যাবে না। চুলের উপর কোনরকম অত্যাচার করা যাবে না, এতে চুল অনেকটা পড়ে যাওয়ার সম্ভবনা থাকে। চুল ভেজা থাকলে সেটিকে কাপড় দিয়ে হালকা ভাবে মুছে নিতে হবে। চুল শুকানোর মেশিন ব্যবহার করা যাবে না। এতেও অতিরিক্ত পরিমাণে চুল পড়ে যায়।

৮. চুলে অতিরিক্ত পরিমাণে হিট দেওয়া যাবে না এবং সূর্যের ক্ষতিকর রোদ থেকে যতটা সম্ভব দূরে থাকুন। সূর্যের ইউভি রশ্মি আমাদের ত্বক ও চুলের জন্য কখনোই ভালো হয়।

আমাদের শেষ কথা

বন্ধুরা প্রথমে আমরা জানলাম আমাদের চুল অতিরিক্ত ঝরে পড়ার পিছনে বেশ কয়েকটি কারণ এরপর আমরা সেগুলোর সমাধান সম্পর্কে জানলাম। কিন্তু এগুলো শুধুমাত্র জানলে আপনার সমস্যার কোনো সমাধান হবে না।

উপরের বলা প্রত্যেকটি বিষয় অবশ্যই আপনার মেনে চলতে হবে, যদি আপনি আপনার চুলের স্বাস্থ্য ঠিক রাখতে চান। প্রথম থেকে যদি আপনি চুলের যত্ন না নেন তাহলে পরবর্তীতে এটি আপনার জন্য অনেক বড় সমস্যা হিসেবে দেখা দিতে পারে।

Leave a Comment